হাথরস কান্ড নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। কলমে- আলম মিদ্দে

সম্পাদকীয়

নজর বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন: ষ্টেরিও টাইপ ইমেজ থেকে,,কবে আমরা নিজেদের মুক্ত করতে পারবো ??

মধ্যপ্রদেশ-ছত্রিশগড়-ঝাড়খণ্ডের নিবাসী
হলে মাওবাদী,, অথচ কাশ্মীরের বাসিন্দা
হলেই দেশদ্রৌহী!! পাঞ্জাবের মানুষ হলে — খালিস্তানী,, কিন্তু অসমের মুসলমান হলেই,, বাংলাদেশী!!

ভারতের মুসলিম নাগরিক হলেই,, তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে,, ইদানিং বেশ কিছুদিন ধরেই এটা চলে আসছে।। হাথরাসের পীড়িতা মহিলার পরিবারের পাশে,, বিগত তিনদিন ধরে একজন মহিলা দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন।। প্রথমে প্রশাসন পরে মিডিয়া ,, ঐ মহিলা সমাজ-কর্মীর গায়ে,, মাওবাদী লেবেল লাগিয়ে দিয়েছে।।

ইদানিং সরকারি তদন্ত সংস্থার যাবতীয় তদন্ত,, মুসলিম এবং মাওবাদকে কেন্দ্র করেই হয়ে চলেছে।। ভীমা কোরেগাঁও মামলার চার্জশিট পাওয়া আসামি,, “গৌতম নওলাখ্খা” আমেরিকায় ISI এর তাবড় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন,, এটা সরকারি ভাবে প্রমানিত।।এছাড়া,, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে,, বহু বিজেপি তথা RSS নেতা-কর্মীদের ISI যোগ সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।।
অথচ,, দোষী কেবলমাত্র মুসলমান।।

দিল্লির শাহীনবাগ আন্দোলনের সঙ্গে,, পাকিস্তান,, খালিস্তান সহ,, মাওবাদী যোগসূত্র প্রমানের চেষ্টা করা হয়েছে।।অথচ,, “হিন্দু রক্ষা বল” তৈরি করে,, মুসলিম ছদ্মবেশে,, বহু মুসলমানকে হত্যা করা হয়ে,, দিল্লি দাঙ্গার সময়।।এটা নিয়ে প্রশাসন অথবা মিডিয়ার কোনো উচ্চবাচ্য দেখতে পেলাম না।।

হাতরাসের হতভাগ্য মহিলার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েপড়া এই মহিলার পরিচয় হলো,, ইনি জব্বলপুরের বাসিন্দা,,পেশায় ডাক্তার।। রাজকুমারী বনসল নামের এই
মহিলা,, জব্বলপুর সুভাষ চন্দ্র বোস হসপিটালের চিকিৎসক।।সোশ্যাল ওয়ার্কার হিসাবে গোটা শহরে মহিলার খ্যাতি রয়েছে।।

মহিলার স্বামী এম-ডি,, সন্তান এম-ডি,,এবং তিনি নিজেও একজন এম-ডি ডাক্তার।। গোটা পরিবারের সুনাম
এবং সুখ্যাতি রয়েছে।।

একবার ভেবে দেখুন,, এতো বড়ো মাপের একজন মানুষ,, এক দলিত পরিবারের এক কামরা ঘরে,, তিনদিন কাটিয়ে দিলেন।। সুতরাং,, তার সদিচ্ছা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না।।

মহিলাকে পাশে পেয়ে ঐ অসহায় পরিবারটি হাতে চাঁদ পেয়ে গেলেন,, এবং,, পরিবারের অনুরোধেই তিনি হাথরাসে থেকে গেলেন।।

হাথরাসের বিদেশি যোগ,, এবং বিদেশি ফান্ডিং তত্ত্ব মুখ থুবড়ে পড়েছে।। এবার
মাওবাদী যোগের তত্ত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।।
হঠাৎ রাজকুমারী দেবীকে নকশাল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।।

রাজকুমারী বনসল জানিয়েছেন,, অসহায় পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো রকম সম্পর্ক নেই।। পরিবারটি তাঁর আত্মীয় নয়।।কেবলমাত্র মানবিক কারনেই তিনি
হাথরাসে ছুটে এসেছেন।। এবং,, এই পরিবারটিকে শেষ পর্যন্ত সাহায্য করে যাবেন।। তিনি পরিবারটিকে অর্থনৈতিক এবং মানবিক,, সমস্ত দিক থেকে সাহায্য
করতে চাইছেন।।

ডাঃ বনসল বলেন,, SIT এর তোলা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।। সিট কোনোভাবেই তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না।। আমাদের তদন্ত সংস্থা,, সরকারের অঙ্গুলি
হেলন,,সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের বদনাম করে চলেছে।।

সরকার নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে,, সরকার বিরোধী কন্ঠ গুলো বন্ধ করে দিতে চাইছে।। এর পরিণতি হবে ভয়ংকর,, ভীষণ ভয়ংকর,, এবং সুদূর প্রসারিত।।

✍️কলমে- আলম মিদ্দে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *